1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. ittehadnews24@gmail.com : Ittehad News24 : ইত্তেহাদ নিউজ২৪
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পটুয়াখালী সরকারি কলেজর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরহুম খন্দকার মঞ্জুর আহসান (রহঃ) এর প্রথম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত অবিলম্বে ঈমান বিধ্বংসী সিলেবাস বাতিল করতে হবে -খেলাফত আন্দোলন মানবজাতির যাবতীয় পথভ্রষ্টতার মূলে রয়েছে তার মৌলিক আক্বীদা থেকে বিচ্যুত হওয়া -পীর ছাহেব ছারছীনা। শীত নিবারণে পটুয়াখালীতে Universal Amity Foundation এর শীত বস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ অব্যাহত। বিএনপি সমাবেশ করে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে : তথ্যমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন রাষ্ট্রপতির সাথে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন বা বলেন, সেটা তিনি বাস্তবায়ন করেন -ইকবাল সোবাহান চৌধুরী দুমকীতে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে পটুয়াখালী মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
শিরোনাম
বিএনপি সমাবেশ করে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে : তথ্যমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন রাষ্ট্রপতির সাথে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন বা বলেন, সেটা তিনি বাস্তবায়ন করেন -ইকবাল সোবাহান চৌধুরী প্রধান বিচারপতির সাথে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পুলিশ সপ্তাহ – ২০২৩ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা সঙ্কোচন বরদাশত করা হবে না কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ লাখ লাখ কোটি টাকা লুট করে আ.লীগ নেতারা বিশ্বধনীদের খাতায় নাম লেখাচ্ছে : বুলু দুর্যোগ মোকাবিলা-শান্তিরক্ষায় সুনাম অর্জন করেছে সেনাবাহিনী – কক্সবাজারে সেনাপ্রধান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : ওবায়দুল কাদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

মাদরাসার স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম চাই – জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধনে মাদ্রসা শিক্ষকরা

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার  :

ডারউইনের বিতর্কিত মতবাদ, হিন্দুত্ববাদ বাদ দিয়ে বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার, কুরআন-সুন্নাহ ও মুসলিম ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে মাদরাসার পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নসহ ১৩ দফা দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল দেশের মাদরাসা শিক্ষকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সবগুলো জেলায় মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ওলামা মাশায়েখ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। একইসাথে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে মানবন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেছেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই দেশের আলেম-ওলামাদের শত বছরের দাবি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দেয়া হয়েছে মাদরাসা শিক্ষার জন্য পৃথক অধিদপ্তর, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, নিরসন হয়েছে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য। সরকার যখন মাদরাসা শিক্ষা ও ইসলামী শিক্ষার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়ে আলেম-ওলামাদের প্রশংসা পাচ্ছেন তখনই একটি কুচক্রিমহল কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তকে ডারউইনের বিতর্কিত মতবাদ, হিন্দুত্ববাদ, রথযাত্রা, হাজার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, নগ্ন ও অশ্লিল ছবি যুক্ত করা এবং বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার বিরোধী বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষকরা এসব পড়াতে চাচ্ছেন না এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাসে এসব পড়তে চান না। মাদরাসা বা দ্বীনি শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞদের অন্ধকারে রেখে হঠাৎ করে মাদরাসার ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বিভিন্ন বইয়ে এসব অন্তর্ভূক্ত করে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন দেশের আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন আয়োজিত সারাদেশে এসব মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে মাদরাসার বই থেকে বিতর্কিত লেখা, ছবি বাতিল করা এবং এর সাথে জড়িতদের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, বর্তমান সরকারের সাফল্য ম্লান করতে এনসিটিবিতে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কিছু ব্যক্তি মাদরাসা, ইসলাম শিক্ষা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কারিকুলাম তৈরি করেছেন। তারা তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে বিতর্কিত করতে চায়। অবিলম্বে এদেরকে চিহ্নিত করে অপসারণ করতে হবে এবং মাদরাসার জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম তৈরি করতে হবে। যেটা হবে মাদরাসা, ইসলাম বান্ধব ও এদেশের আলেম-ওলামা এবং পীর-মাশায়েখদের সাথে আলোচনা করে, তাদের পরামর্শে। তিনি বলেন, আমরা একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দিতে চাই। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষার সাথে সাধারণ, বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয় করে একটি নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। আমরা খাটি ওয়ারিসাতুল আম্বিয়া তৈরি করতে পারবো।

শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, যারা স্বপ্ন দেখছে এদেশের মাদরাসাগুলোতে বানর থেকে মানুষ হয়েছে, রথযাত্রার শিক্ষা, মন্দিরে যাওয়ার শিক্ষা দিবে তাদের সেই স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়ন হবে না। তাদেরকে এই চিন্তা-চেতনা, ষড়যন্ত্র থেকে পিছিয়ে আসতে হবে। এদেশে মুসলমান ও ইসলামী আকিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

জমিয়াত মহাসচিব বলেন, ইতোমধ্যে আমরা শিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি দেখা করে বলেছি। মানবন্ধনের মাধ্যমে এবং সারাদেশের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমরা মাদরাসা শিক্ষকরা কোন রাজনীতি করি না, মসজিদের মিম্বরে বসে ইসলামী তাহজিব, তামাদ্দুন, একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা, আদর্শ ইসলামী পরিবার গঠনের কথা বলি। এই পরিবেশ থেকে সমাজকে যেন বিচ্যুত করা না হয় সেদিকে নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি দেবেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের দাবি পূর্ণ না হলে এদেশের ইসলাম প্রিয় মুসলিম ভাই, পীর-মাশায়েখদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করবো। তবে আমরা কোন আন্দোলনে যেতে চাই না, মানববন্ধনের পর দ্বিতীয় আর কোন কর্মসূচি দিতে চাই না, আমরা শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে চাই। আমাদের অন্য রাস্তায় প্রেরণের জন্য কোন কাজ যেন করা না হয়।

ঢাকা মহানগর জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আ খ ম আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সরকার জাতীয় কারিকুলামের আলোকে ২০২৩ সালে দাখিল ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে সাধারণ বিষয়ের নতুন বই প্রণয়ন করেছে। এই বইয়ের আলোকে আগামী বছর পাঠদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে বাংলাদেশের হাজার বছর ধরে চলে আসা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী বহুকিছু আছে। এমনকিছু নগ্ন ও অশ্লিল ছবি সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছে যা বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার বিরোধী। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারও এই দর্শন ও চিন্তায় বিশ্বাস করেন না। কোন কুচক্রিমহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নির্বাচনের পূর্বে সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য সুকৌশলে জাতির বৃহত্তর অংশকে মাদরাসা বা দ্বীনি শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞদের অন্ধকারে রেখে হঠাৎ করে এসব বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেই কুচক্রিমহলের হীন প্রচেষ্টার প্রতিবাদ করছি, প্রতিরোধ করছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্মারকলিপি দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বইগুলোতে বিতর্কিত, প্রত্যাখ্যাত ডারউইনের মতোবাদ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, হিন্দুত্ববাদ, সামাজিক অনুষ্ঠান বলতে রথযাত্রা, এমন অশ্লিল ও নগ্ন ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে যেটা কল্পনা করা যায় না। যে প্রধানমন্ত্রী এদেশের শতবছরের দাবী ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়েছে, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করেছে, মাদরাসায় দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণ করছেন, মাদরাসা ও মাদরাসা শিক্ষার যে উন্নয়ন এই সরকারের সময়ে হয়েছে তা অতীতে কোন সময় সেটি হয়নি। কারা, কী উদ্দেশ্যে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আমাদের কৃষ্টি-কালচার, ইসলাম ধর্মবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে সেটাই রহস্য।

ঢাকা মহানগরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আ খ ম আবুবকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মো. ছাদেক হাছানের পরিচালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় জমিয়াতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবুজাফর মো. ছালেহ্, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা জালালুদ্দীন, অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম সরকার, অধ্যক্ষ মাওলানা এজহারুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা রেজাউল করিম, মুফতি মাওলানা মাহবুবুর রহমানসহ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের ঢাকা মহানগরী ও জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ মাদরাসা প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীগণ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশে নেন।

মানববন্ধনে জমিয়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, যে দেশের নাগরিকদের মধ্যে শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমান সে দেশে কুরআন-সুন্নাহ ও মুসলিম ঐতিহ্য, কৃষ্টি, দীর্ঘদিনের লালিত সংস্কৃতির সাথে সাথে বর্তমান চাহিদাকে সমন্বয় করে দেশবরেণ্য আলেম ওলমাদের অংশগ্রহণে একটি যুগোপযোগি শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক তৈরি হবে এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। আলেম-ওলামাগণ বারবার একই দাবী- মুসলিম জনগোষ্ঠির ইমান-আকীদা, শিক্ষা-সংস্কৃতি সমুন্নত রেখে আধুনিক বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্তি ও মাদরাসা শিক্ষার বৈশিষ্ট উপযোগী পরিমার্জন সাপেক্ষে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন ও সংস্কার করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০২২ সালের জন্য এনসিটিবি ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণির জন্য যে ৯টি বই (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত, শিল্প সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জীবন জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, বিজ্ঞান) পাইলটিং/পরীক্ষামূলকভাবে পাঠদান করা হয় এবং ২০২৩ সাল থেকে ৬ষ্ঠ, ৭ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ঐসমস্ত বই স্কুল ও মাদরাসায় বাধ্যতামূলকভাবে পড়াতে হবে বলে এনসিটিবি ঘোষণা দিয়েছে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্ণিত পাঠ্যপুস্তক মাদরাসা শিক্ষার জাতীয় লক্ষ-উদ্দেশ্য (জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ এ বর্ণিত) এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট উপেক্ষা করে রচিত হয়েছে।

তারা বলেন, এসব পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশিত অধিকাংশ ছবি, চিত্র, শব্দ, বাক্য, তথ্য ও উপাত্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মর্মাহত এবং তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে সঙ্কিত করে তুলবে। অধিদপ্তরসমূহ ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু করে দিয়েছে। সেখানে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৯টি বইয়ের মধ্যে কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত, মুসলিম মনীষী, বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিকদের বানী, উদ্ধৃতি, নীতি-নৈতিকতা সৃষ্টিকারী কোন বিষয় স্থান পায়নি। উপরন্ত আপত্তিজনক বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। যেমন : বিজ্ঞান বইয়ে ১১ জন উলঙ্গ নারী-পুরুষের ছবি দিয়ে তাদের লজ্জাস্থানের পরিচয় দেয়া হয়েছে এবং ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন অঙ্গের বর্ণনা দিয়ে ওষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ঈমান হারা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৯টি বইয়ে শতশত মেয়ের বেপর্দা ছবি ছাপানো হয়েছে। হিন্দু মহিলার শাঁখা পরা ছবি রয়েছে। ইংরেজি বইয়ে কুকুর ও নেকড়ে বাঘের ২৪টি ছবি ছাপানো হয়েছে যা ইউরোপীয় সংস্কৃতির অংশ বিশেষ।

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে ডারউইনের বিবর্তনবাদ (মানুষ সৃষ্টি হয়েছে বানর থেকে), দেব-দেবীর নগ্ন ও অর্ধনগ্ন ছবি এবং দেবতাদের পরিচয় দেয়া হয়েছে যা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রত্যাখ্যাত।

জীবন জীবিকা বইয়ে ইশপের গল্প, প্রনাম, গানশোনা, নাচ, বাঁশি, হারমোনিয়াম, তবলা, গিটার ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাশ্চাত্য ও মূর্তিপূজার সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও দূর্গাপুজা, গীতাঞ্জলী, কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। উপরন্ত বইগুলোতে যে সমস্ত মানুষের নাম ব্যবহৃত হয়েছে একটি মুসলিম দেশে সত্যিই আপত্তিকর। যেমন: আনিকা, লিটল, রাড, প্লাবন, রতন, দীপক, নন্দিনী, এন্তি, মিসেল, মনিকা চাকমা, ডেবিট, প্রিয়াঙ্কা, মন্দিরা ইত্যাদি। সামগ্রিক বিবেচনায় ৯২% মুসলমানের দেশে পাশ্চাত্য ও দেব-দেবীর বিশ্বাস ও তাদের আরাধনার শিক্ষা সংস্কৃতির আদলে তৈরি বইগুলো স্কুলের জন্যও উপযোগি নয়। মাদরাসায় এসকল বই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গ্রহণ ও ব্যবহারের প্রশ্নেই আসেনা।
জমিয়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ধরণের পাঠ্যপুস্তক মাদরাসায় পাঠদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেরিত এবং নির্দেশিত হলে, মাদরাসা শিক্ষাবান্ধব সরকারকে ইসলাম ও মুসলমানদের ঐতিহ্য বিরোধী হিসেবে দাঁড় করিয়ে ধর্ম ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জনকে ম্লান করে দিবে, যা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান: মাদরাসার স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সকল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন জমিয়াত নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে বলা হয়, মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর অবদান এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কৃতজ্ঞতার সাথে আজীবন স্মরণে রাখবে। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কওমি মাদরাসার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সনদের মান প্রদান, জনবল কাঠামো অনুমোদন, মাদরাসার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ৫৬০টি মডেল মসজিদ, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কে জাতীয় ঘোষণাসহ বহুমুখী পদক্ষেপ ইসলামী শিক্ষার ইতিহাসে সোনালী হরফে লেখা থাকবে। যুগের চাহিা পূরণে রূপকল্প ৪১, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন, উন্নয়ন কিংবা যুগোপযোগী করা নিয়ে কারো দ্বিমত নেই। তবে শতকরা ৯২ ভাগ মুসলানের দেশে কুরআন-সুন্নাহ ও মুসলিম ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখেই পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে।

১৩ দফা দাবি: জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের ১৩ দফা দাবিগুলো হল- ১. মাদরাসা শিক্ষার জন্য এ সরকারের প্রণীত ও জাতীয় সংসদে গৃহীত জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ এ বর্ণিত মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের উপযোগী স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী এবং পাঠ্যবই, এনসিটিবি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে প্রণয়ন করার বিকল্প নেই । অনতিবিলম্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে এ কাজ শুরু করতে হবে।

২. দাবীকৃত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই প্রণয়নের পূর্বপর্যন্ত প্রচলিত পঠ্যপুস্তকসমূহ পাঠদান অব্যাহত রাখতে হবে।
৩. সাধারণ শিক্ষায় এসএসসি পরীক্ষা দশটি বিষয়ে ১০০০ নম্বরের অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা শিক্ষার দাখিল পরীক্ষার জন্য মূল বিষয় ঠিক রেখে সমন্বয় সাধন করে ১০০০ নম্বর নির্ধারণ করতে হবে। ৪. বেসরকারি সকল স্তরের শিক্ষক-কর্মচারীগণের চাকুরী জাতীয়করণ করতে হবে।
৫. সংযুক্ত ইবতেদায়ী প্রধান সহ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন/ভাতা প্রদান করতে হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায় স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদেরকে উপবৃত্তি, টিফিনসহ সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে।

৬. প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত ২০১৮ সালে প্রণিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা মঞ্জুরীর ১৪ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। ৭. মহিলা কোটা শিথিল ও সংশোধনপূর্বক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. আরবি প্রভাষকগণের উচ্চতর পদে আসীন হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৯. অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরবি প্রভাষকদের জন্য পথ উন্মুক্ত করতে হবে।

১০. কামিল পাশ সহকারী মৌলভীদের উচ্চতর স্কেলের ব্যবস্থা করতে হবে। ১১. মাদরাসা শিক্ষকগণের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট স্থাপন করতে হবে। ১২. মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) স্কুল ও কলেজের নীতিমালা ২০২১ এর সাথে সমন্বয় করে মাদরাসার অনার্স স্তরের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। ১৩. প্রায় দুই হাজার শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট কর্তন করা হয়েছে যা অমানবিক। অনতি বিলম্বে বকেয়াসহ প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Categories