1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. ittehadnews24@gmail.com : ইত্তেহাদ নিউজ২৪ : ইত্তেহাদ নিউজ২৪
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতের সম্মিলিত প্রয়াসে আমাদের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে : আইজিপি পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত আযানের পূর্বে ও পরে দরুদ এবং সালাম পড়ার বিধান সুন্নতে নববীর আমলের পরিবেশ করতেই সমগ্র বাংলায় দীনিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করছি – ছারছীনার পীর ছাহেব বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল : তথ্যমন্ত্রী হোয়াইট হাউসে হিজাব পরে প্রেস ব্রিফিং, ইতিহাস গড়লেন সামিরা কমনওয়েলথে অনুপ্রেরণাদায়ী শীর্ষ ৩ মহিলা নেতার অন্যতম শেখ হাসিনা -কমনওয়েলথ মহাসচিব বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম : প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পূণ্যভুমি -ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
শিরোনাম
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতের সম্মিলিত প্রয়াসে আমাদের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে : আইজিপি পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল : তথ্যমন্ত্রী কমনওয়েলথে অনুপ্রেরণাদায়ী শীর্ষ ৩ মহিলা নেতার অন্যতম শেখ হাসিনা -কমনওয়েলথ মহাসচিব বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম : প্রেসিডেন্ট সরকার পবিত্র ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী (সঃ) দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ছারছীনার পীর ছাহেবের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ক্যান্সারের ওপর বেশি করে গবেষণার গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইন শৃঙ্খলা সক্ষমতা বাড়া‌তে বাংলাদেশ পুলিশে যুক্ত হচ্ছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এসব কথায় কান দিলে চলে না: টিকার সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

♦ ইয়াওমে আশুরার ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ,আশুরার রোজার ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়♦

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
ধর্মীয় প্রতিবেদকঃ
♦আশুরার দিনের ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ।♦
আরবি ‘আশারা’ শব্দের শাব্দিক অর্থ ১০ বা দশম। আরবি ক্যালেন্ডারের হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। মহান আল্লাহ বছরের যে কয়েকটি দিনকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, তার মধ্যে আশুরা বা মহররমের ১০ তারিখ অন্যতম।
আশুরার দিন যেসব তাৎপর্যময় ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল, সংক্ষেপে সেগুলো হলো—
১. এই দিনে আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী সৃষ্টি করেন। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
২. এ দিনে হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় নেমে আসেন। মহররমের ১০ তারিখে আল্লাহ পাক আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল করেন এবং এ দিনে তিনি স্ত্রী হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে সাক্ষাৎ করেন।
৩. হজরত নুহ (আ.)-এর জাতির লোকেরা আল্লাহর গজব মহাপ্লাবনে নিপতিত হওয়ার পর ১০ মহররম তিনি নৌকা থেকে ঈমানদারদের নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন।
৪. হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ৪০ দিন পর ১০ মহররম সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেন।
৫. হজরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগ করার পর মহররমের এ দিনে আল্লাহর রহমতে সুস্থতা লাভ করেন।
৬. হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.) তার ১১ ভাইয়ের ষড়যন্ত্রে কূপে পতিত হন এবং এক বণিক দলের সহায়তায় মিসরে গিয়ে হাজির হন। তারপর আল্লাহর বিশেষ কুদরতে তিনি মিসরের প্রধানমন্ত্রী হন। ৪০ বছর পর ১০ মহররম পিতার সঙ্গে মিলিত হন।
৭. হজরত ইউনুস (আ.) জাতির লোকদের প্রতি হতাশ হয়ে নদী অতিক্রম করে দেশান্তরিত হওয়ার সময় নদীর পানিতে পতিত হন এবং মাছ তাকে গিলে ফেলে। মাছের পেট থেকে তিনি আল্লাহর রহমতে ৪০ দিন পর মুক্তি পান ১০ মহররম তারিখে।
৮. হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের অত্যাচারের কারণে তার দলবলসহ অন্যত্র চলে যান। পথে নীল নদ পার হয়ে তিনি ফেরাউনের হাত থেকে আশুরার দিন মুক্তি পান। আর ফেরাউন তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে ডুবে মারা যায়।
৯. হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির লোকেরা তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলে মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহ পাক তাকে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তি দান করেন।
১০. মহররম মাসের ১০ তারিখ কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার অবতারণা হয়। এদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।
(উমদাতুল কারী ৮.খ.২৩৩.পৃ.)
♣আশুরার রোজার ফজিলত ♣
মুহাররমের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরার দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা মুকাররমায় ছিলেন তখনও আশুরার দিন রোযা রাখতেন। এরপর যখন মদীনা মুনাওয়ারায় গেলেন তখন নিজেও রোযা রাখতেন অন্যদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। তাছাড়া রমযানের রোযা ফরয হওয়ার আগে এই রোযা ফরয ছিল।
যখন রমযানের রোযা ফরয হল তখন আশুরার রোযা কেবল নফল রোযা হিসাবে নির্ধারিত হল। তবে সাধারণ নফল রোযার চেয়ে তার গুরুত্ব বেশি।
আবু কাতাদাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
صيام يوم عاشوراء، إني أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله
আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।( -সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী ১/১৫৮)
ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
أن رسول الله ﷺ قدم المدينة فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء، فقال لهم رسول الله ﷺ: ما هذا اليوم الذي تصومونه؟ قالوا هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وقومه، وغرق فرعون وقومه فصامه موسى شكرا فنحن نصومه. فقال رسول الله ﷺ : فنحن أحق وأولى بموسى منكم. فصامه رسول اللهﷺوأمر بصيامه
রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এটা কোন্ দিন যে তোমরা রোজা পালন করছ? তারা বলল, এটা এমন এক মহান দিবস যেদিন আল্লাহ মুছা আ. ও তার সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন মুছা আ. শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। এ কারণে আমরাও রোজা পালন করে থাকি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমাদের চেয়ে আমরা মুছা আ. এর অধিকতর ঘনিষ্ট ও নিকটবর্তী।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ রোজা পালন করলেন ও অন্যদেরকে রোজা পালনের নির্দেশ দিলেন। ( মুসলিম হা/ ১১৩০)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযি.) বর্ণনা করেন,
حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ “فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ”. قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আশুরার রোজা রাখলেন এবং (অন্যদেরকে) রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটিতো এমন দিন, যাকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বড় জ্ঞান করে, সম্মান জানায়। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আগামী বছর এদিন আসলে, আমরা নবম দিনও রোজা রাখব ইনশাল্লাহ। বর্ণনাকারী বলছেন, আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাত হয়ে গিয়েছে। ( মুসলিম হা/১৯৪৬)
আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে,
صوموا عاشوراء وخالفوا فيه اليهود، صوموا قبله يوما أو بعده يوما
‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’(-মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’-(সহীহ মুসলিম ১/৩৫৯)
হাদীস শরীফ থেকে আশুরা সম্পর্কে আমরা এই হেদায়েতও পাই যে, আশুরার সঙ্গে ৯ মুহাররমের রোযা রাখাও ভালো। বরং আশুরার সঙ্গে যদি ৯ বা ১১ মুহাররমে রোযা রাখা যায় তাহলে আরও ভালো। আশুরার রোযা সংক্রান্ত হাদীস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য তলাবায়ে কেরাম ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ.-এর কিতাব ‘লাতাইফুল মাআরিফ ফীমা লিমাওয়াসিমিল আমি মিনাল ওয়াযাইফ’ মুতালাআ করতে পারেন। (দ্রষ্টব্য উক্ত কিতাবের ১০২-১২৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশক : দারু ইবনে কাসীর, বৈরুত, ১৪২৪ হিজরীর সংস্করণ)।
উপরোক্ত হাদীছ সমূহ পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে। যেমন-
(১) আশূরার ছিয়াম ফেরাঊনের কবল থেকে নাজাতে মূসার (আঃ) শুকরিয়া হিসাবে পালিত হয়।
(২) এই ছিয়াম মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদী শরী‘আতে চালু ছিল। আইয়ামে জাহেলিয়াতেও আশূরার ছিয়াম পালিত হ’ত।
(৩) ২য় হিজরীতে রামাযানের ছিয়াম ফরয হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ছিয়াম সকল মুসলমানের জন্য পালিত নিয়মিত ছিয়াম হিসাবে গণ্য হ’ত।
(৪) রামাযানের ছিয়াম ফরয হওয়ার পরে এই ছিয়াম ঐচ্ছিক ছিয়ামে পরিণত হয়। তবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিয়মিত এই ছিয়াম ঐচ্ছিক হিসাবেই পালন করতেন। এমনকি মৃত্যুর বছরেও পালন করতে চেয়েছিলেন।
(৫) এই ছিয়ামের ফযীলত হিসাবে বিগত এক বছরের গোনাহ মাফের কথা বলা হয়েছে। এত বেশী নেকী আরাফার দিনের নফল ছিয়াম ব্যতীত অন্য কোন নফল ছিয়ামে নেই।
(৬) আশূরার ছিয়ামের সাথে হযরত হুসায়েন বিন আলী (রাঃ)-এর জন্ম বা মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নেই। হুসায়েন (রাঃ)-এর জন্ম মদীনায় ৪র্থ হিজরীতে এবং মৃত্যু ইরাকের কূফা নগরীর নিকটবর্তী কারবালায় ৬১ হিজরীতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর ৫০ বছর পরে হয়।
মোট কথা আশূরায়ে মুহাররমে এক বা দু’দিন স্রেফ নফল ছিয়াম ব্যতীত আর কিছুই করার নেই। শাহাদতে হুসায়েনের নিয়তে ছিয়াম পালন করলে ছওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ কারবালার ঘটনার ৫০ বছর পূর্বেই ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এবং অহি-র আগমন বন্ধ হয়ে গেছে।
♠ আশুরার দিন পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্যানুপাতে ভাল খাবারের আয়োজন ♠
আশুরার দিন পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্যানুপাতে ভাল খাবারের আয়োজন সম্পর্কিত হাদীসকে ভিত্তিহীন বলা ঠিক নয়। এমন হাদীস ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।
তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন উক্ত কাজকে সাওয়াবের কাজ মনে করা না হয়। বরং আল্লাহর কাছে সারা বছরের উত্তম রিজিকের আশা-আকাঙ্খার প্রতীকী পদ্ধতি হিসেবে নেকফালি মনে করবে। [ফাতাওয়া নাওয়াজেল-১/৫০৫, আহসানুল ফাতাওয়া-১/৩৯৫, ১/৫১৩]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أَوْسَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَنَتَهُ»
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিন তার পরিবারের উপর সচ্ছলতা দেখাবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য উক্ত বছরকে সচ্ছল করে দিবেন। [মু’জামে ইবনুল আরাবী, হাদীস নং-২২৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৯৩০২, আলমু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-১০০০৭, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৫১৩, ৩৫১৫, ৩৫১৬]
ইমাম বায়হাকী উক্ত হাদীস একাধিক সনদে আনার পর মন্তব্য করেনঃ
هَذِهِ الْأَسَانِيدُ وَإِنْ كَانَتْ ضَعِيفَةً فَهِيَ إِذَا ضُمَّ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ أَخَذَتْ قُوَّةً،
এই সনদগুলো যদিও জঈফ। কিন্তু এসব যখন একটি অন্যটির সাথে মিলেছে তখন তা শক্তিশালী হয়ে গেছে। [শুয়াবুল ঈমান লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৩৫১৫, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা ৩৩৩]
তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় হল, পরিবারের উপর সাধ্যানুপাতে খরচ করা জায়েজ আছে। বা খরচ করা উচিত। কিন্তু এদিন সম্মিলিতভাবে খিচুরী পাকানো, বিশাল খাবারের আয়োজন করে বিলানো, এসবই খারেজীদের সাথে মিলে যায়। যা সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য ও নাজায়েজ।
وقد عاكس الرافضة والشيعة يوم عاشوراء النواصب من اهل الشام، فكانوا إلى يوم عاشوراء يطبخون الحبوب، ويغتسلون ويلبسون أفخر ثيابهم ويتخذون ذلك اليوم عيدا يصنعون فيها أنواع الأطعمة، ويظهرون السرور والفرح يريدون بذلك عناد الروافض ومعاكستهم (البداية والنهاية-8/599-600
♦ আশুরার দিনে করণীয় ♦
১. আশুরার দিনে রোযা রাখা। তবে এর সাথে ৯ তারিখ বা ১১ তারিখ মিলিয়ে রাখা। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখ। তবে এ ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করতঃ তোমরা আশুরার পূর্বে অথবা পরের একদিন সহ রোযা রাখবে।” (মুসনাদে আহমাদ-হাঃ নং ২৪১)
২. এই দিন বেশী বেশী তাওবা-ইস্তিগফার করা। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মুহাররম হলো আল্লাহ তা‘আলার (নিকট একটি মর্যাদাবান) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন। (তিরমিযীঃ নং ৭৪১)
৩. দীনের খাতিরে এই দিনে হযরত হুসাইন রাযি. যে ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রদর্শন করেছেন তা থেকে সকল মুসলমানের দীনের জন্য যে কোন ধরনের ত্যাগ ও কুরবানী পেশ করার শিক্ষা গ্রহণ করা।
♥আশুরার দিনে বর্জনীয় ♥
১. তা’যিয়া বানানো অর্থাৎ, হযরত হুসাইন রাযি. এর নকল কবর বানানো। এটা বস্তুত এক ধরণের ফাসেকী শিরকী কাজ। কারণ মূর্খ লোকেরা ‘হযরত হুসাইন রাযি. এতে সমাসীন হন’ এই বিশ্বাসে এর পাদদেশে নযর-নিয়ায পেশ করে, এর সামনে হাত জোড় করে দাঁড়ায়, এর দিকে পিঠ প্রদর্শন করাকে বেয়াদবী মনে করে, তা’যিয়ার দর্শনকে ‘যিয়ারত’ বলে আখ্যা দেয় এবং এতে নানা রকমের পতাকা ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে মিছিল করে; যা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। এছাড়াও আরো বহুবিধ কুপ্রথা ও গর্হিত কাজের সমষ্টি হচ্ছে এ তা’যিয়া। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৫/২৯৪,৩৩৫, কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৩২, ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়াঃ ২/৩৪৩)
স্মর্তব্য: তা’যিয়ার সামনে যে সমস্ত নযর-নিয়ায পেশ করা হয় তা গাইরুল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হয় বিধায় তা খাওয়া হারাম। (সূরা মাইদাহঃ ৩)
২. মর্সিয়া বা শোকগাঁথা পাঠ করা, এর জন্য মজলিস করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা সবই নাজায়িয। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৫/২৯৪, কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৩২, ৪২)
৩. ‘হায় হুসেন’, ‘হায় আলী’ ইত্যাদি বলে বলে বিলাপ ও মাতম করা এবং ছুরি মেরে নিজের বুক ও পিঠ থেকে রক্ত বের করা। এগুলো করনেওয়ালা, দর্শক ও শ্রোতা উভয়ের প্রতি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। (আবূ দাউদ, হাঃ নং ৩১২, ইবনে মাজাহঃ হাঃ নং ১৫৮৪)
৪. কারবালার শহীদগণ পিপাসার্ত অবস্থায় শাহাদতবরণ করেছেন তাই তাদের পিপাসা নিবারণের জন্য বা অন্য কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে এই দিনে লোকদেরকে পানি ও শরবত পান করানো। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৫/২৮৯, কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৪০)
৫. হযরত হুসাইন রাযি. ও তাঁর স্বজনদের উদ্দেশ্যে ঈছালে সাওয়াবের জন্য বিশেষ করে এই দিনে খিচুড়ি পাকিয়ে তা আত্মীয়-স্বজন ও গরীব মিসকীনকে খাওয়ানো ও বিলানো। একে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ যেহেতু নানাবিধ কু-প্রথায় জড়িয়ে পড়েছে তাই তাও নিষিদ্ধ ও না-জায়িয। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৪০)
৬. হযরত হুসাইন রাযি.-এর নামে ছোট বাচ্চাদেরকে ভিক্ষুক বানিয়ে ভিক্ষা করানো। এটা করিয়ে মনে করা যে, ঐ বাচ্চা দীর্ঘায়ু হবে। এটাও মুহাররম বিষয়ক কু-প্রথা ও বিদ‘আত। (ইসলাহুর রুসূম)
৭. তা’যিয়ার সাথে ঢাক-ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো।(সূরায়ে লুকমানঃ ৬)
৮. আশুরার দিনে শোক পালন করা; চাই তা যে কোন সূরতেই হোক। কারণ শরীয়ত শুধুমাত্র স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীর জন্য ৪ মাস ১০ দিন আর বিধবা গর্ভবতীর জন্য সন্তান প্রসব পর্যন্ত এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ৩ দিন শোক পালনের অনুমতি দিয়েছে। এই সময়ের পর শোক পালন করা জায়িয নেই। আর উল্লেখিত শোক পালন এগুলোর কোনটার মধ্যে পড়ে না। (বুখারীঃ হাঃ নং ৫৩৩৪, ৫৩৩৫, ৫৩৩৬, ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়াঃ ২/৩৪৪)
উল্লেখ্য যে শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত শোক পালনের অর্থ হলো শুধুমাত্র সাজ সজ্জা বর্জন করা। শোক পালনের নাম যাচ্ছেতাই করার অনুমতি শরী‘আতে নেই। (দুররে মুখতারঃ২/৫৩০)
৯. শোক প্রকাশ করার জন্য কালো ও সবুজ রঙের বিশেষ পোশাক পরিধান করা। (ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়াঃ ২/৩৪৪)
১০. এই দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত বয়ান করার জন্য মিথ্যা ও জা‘ল হাদীস বর্ণনা করা। কারণ হাদীসে মিথ্যা হাদীস বর্ণনাকারীকে জাহান্নামে ঠিকানা বানিয়ে নিতে বলা হয়েছে। (বুখারীঃ হাঃ নং ১০৭)
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে শিরক, বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন